আমি যখন মা হলাম তখন আমার বয়স সাতাশ..প্রথম মা ৪৫ এ হলেও বুঝি সে একেবারেই আনকোরা বাড়ির পরিবেশ সর্বদা আপনার অনুকুল

আমি যখন মা হলাম তখন আমার বয়স সাতাশ..প্রথম মা ৪৫ এ হলেও বুঝি সে একেবারেই আনকোরা বাড়ির পরিবেশ সর্বদা আপনার অনুকুল

আমি যখন মা হলাম তখন আমার বয়স সাতাশ..  প্রথম মা ৪৫ এ হলেও বুঝি সে একেবারেই আনকোরা…  বাড়ির পরিবেশ সর্বদা আপনার অনুকুল থাকবে তেমন মোটেও নয়…  বরং মা হলাম নিজ দায়িত্বেএই ভাবনা মনে গেঁথে নিলে কষ্ট কম..  কোনো দ্বিতীয় কিম্বা তৃতীয় জনের সামান্য তম সাহায্য আশা করাও বুঝি মুর্খামি..  মা হলে পর আমি সেটা খুব বুঝেছি..  আমার বেবি বয়  হল বাম পা ক্লাব ফুট.. কোনো ধারনাই নেই সেই ট্রিটমেন্ট এর বিষয়ে..  তখন ফোন নেটে এত পারদর্শী নই..পেডিট্রিশিয়ান জানালেন অর্থোপেডিক এ বিষয়ে ধারনা দেবেন..  একমাস বয়স থেকে প্রতি সপ্তাহে প্লাস্টারআমি একাবাচ্চাবৃষ্টিট্রেন আর কাঁধে ঝোলা..  যাতে পাম্প করা কিছু ব্রেস্ট ফিড.আর কিছু জরুরী পাথেয় ..  সাথে কেউ নেই..  তোয়ালে মোড়ানো বাচ্চার যা ওয়েট তার থেকেও বেশী ভারী যেন প্লাস্টার…  ৯সপ্তাহ… ট্রেনের মহিলাদের আমি বেশ পরিচিত মুখ তখন..আমার মত আতুসী মেয়ে যে কিনা পিরিয়ড হলে কলেজ স্কুল অফিস কামাই করে সে অদ্ভুত রকমের ভেতর থেকে শক্তি পেয়েছিলতাকেই বুঝি মাতৃত্ব বলে..  

বাড়িতে খুব স্ট্রিকড..  অভিমানে বালিশ ভেজানোর দিনকে করলাম টাটা..  বাইরে থেকে এলে প্রপারলি হাত মুখ ধুয়েই বাচ্চা কে কোলে নেওয়া যাবে..  নাহলে যতই বীর পুরুষ হও তুমিকেউই অ্যালাওড নও..  ঝগড়া?  করে নেব কোনো চাপ নেই..  পারিনা শব্দ এই কদিনেই আমার ডিকশনারি থেকে হাওয়া ! আছে সবাই..  তবু কারুর মনে নেই এ বাড়ি তে একটা সদ্যজাত বাচ্চার মা থাকে.. সমস্যা কি?  নিজে বানিয়ে নাও..  মনে পড়েতুমুল খিদে পেয়েছে… দুধসাবু ঠান্ডা করে নিয়ে সবে খাব..  ভদ্রলোকের ঘুম ভেঙেছে… ভাবলাম ওকে কোলে নিয়ে বসে শান্তি মনে খাব!  ওরে বাবা! তিনি ফাউন্টেন অন করে দিলেন আচানক… আমার দুধসাবুর ওপর তার টয়লেট টলটল করছে..  খিদে কি জিনিস বুঝেছি সেদিনযে থালায় চুল পড়লেভাতে কাঁকড় পেলে পুরো ভাত টাই ফেলে দিত রাগ দেখিয়েসেই মেয়েছেলে কে বিছানায় শুইয়ে সিঙ্কে গিয়ে ওপর থেকে টয়লেট টা ফেলে দিয়ে বাকি খাবার গলা:ধকরণ করেই ফেলল..

ছেলে ছমাস অব্দি পুরো ব্রেস্ট ফিডেই ছিল..  এবার এল উইনিং টাইম.. একটা খাবার একদিন একবার…  বাকি সারাদিন ব্রেস্ট ফিড…  এই ভাবে রেগুলার ওকে যা দিতে পারব তা টেস্ট করে ফেলল ও..  প্রথম নজর রাখলাম যাতে ওকে জোর করে না খাওয়াতে হয়ওই গলায় টাওয়াল বেঁধে পেস্ট করে ছেঁকে..  কারণ ওর মার অফিস শুরু হবে.. যে ওকে দেখবে সে ওর রক্তের লোক নয় ফলে তার থেকে ১০০ ভাগ কেয়ার আশা করাটাই বোকামি…কারণ পয়সা দিলেও সব পাওয়া যায় এমন ভাবনা বুঝি অমূলক… বাড়ির লোকের ওপর সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া যাবে না কারণ তাতে করে তিনি আনহাইজিনিক কিছু করে বসলেও আমার চুপ করে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না..  বরং যাকে রাখব তার ওপর তাঁর কড়া নজর থাকুক..এতে আমিও শান্তি কারণ বাচ্চার ব্যাপারে নো কম্প্রোমাইস.. 

 ওকে নিজে হাতে বড় করার জন্য আমার কাছে সময় ছিল মাত্র ৮ মাস.. অর্থাৎ ফুল টাইম মাদারহুড পেয়েছি ওই ৮ মাস! আমার বাচ্চাকে যত সুঅভ্যেস আমি দিয়ে যাব তাতে ওর সুস্থ ভাবে  বড় হবার পথে বাধা কম পাবে.. হাতে খাওয়ানোর বদলে চামচের ব্যবহার স্বাস্থ্যকর মনে হয়েছিল।  ঘুরে ঘুরে খাওয়ানোকাক পাখি দেখিয়ে খাওয়ানো কে না করলাম .৷ খেতে হয় একজায়গায় বসে একেবারেই.. । যেকোনো খাবার শুরুর আগে জল খাওয়া মাস্ট…  খেতে খেতে জল খেতে নেই.. 

লাঞ্চ শেষে টকদই রাখলাম সেই ৭ মাস বয়স থেকে… 

ঘুমের সময় নো গান নো সুড়সুড় নো  হাতের  মৃদু চাপড়..  বালিশ মশারি মাস্ট ..  

এতে আমি না থাকলেও ওর খাওয়া আর ঘুম নিয়ে কখনো বেগ পেতে হয়নি কাউকে… 

ছোট থেকে মানে সেই চারমাস বয়স থেকে বারবার টয়লেট করিয়েছি বিছানার বাইরে  প্রতি আধঘন্টায়   এতে বিছানায় টয়লেট করার আগে ও অস্বস্তি দেখাত কিম্বা কাঁদত .  আর যে দেখবে ওকে তার ও বুঝতে অসুবিধে হবেনা ও টয়লেট করবে..  ফলে ভিজেতে শুয়ে থাকতে হয়নি কখনো আর ঠান্ডা লাগা নিয়েও ভাবতে হয়নি আমাকে সারাদিন বাড়ির বাইরে থেকেও… মুখে হাত দেওয়া কিম্বা যা কিছু মুখে পুরে যাতে না দেয় সেদিকে স্ট্রিক্টলি লক্ষ্য রাখতে বলেছি দিদিকে…  আসলে দাঁত ওঠার সময় দাঁতে যে সিড়সিড়ানি হয় তাতেই ওরা মুখে পুরতে চায় কিছু আর বাচ্চারা সব কিছু জিভ দিয়ে চিনতে চায়..  আমরা একটু কনশাস থাকলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়..

 নেক্সটজামা কাপড় পরিচ্ছন্ন রাখা..  খুব ছোট থেকে প্রতি ঘন্টায় জামা বদল..  আরেক্টু বড় হলে দিনে চারবার..  সকালেস্নানেরপর,বিকেলে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে শুতে যাবার আগে..  এতে ওর স্কিন প্রবলেম কম আসবে বলে মনে হয়েছিল… আমার ডাক্তার বলেছিলেন দিনে চারটে ফিড দিতে সকাল দুপুর বিকেল রাত…  রাতের খাবার ৯ টার মধ্যে কমপ্লিট হয়ে যেতে হবে.. ওদিকে ব্রেকফাস্ট সকাল ৭ টায় মাস্ট.. 

আমার ছেলের বয়স এখন ৮ যাকে খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোবার কথা বলতে হয়নাখেতে বসার আগে জল খাবার কথাখেয়ে উঠে কুলকুচির কথা…  শোয় যত গরমই হোক মশারিতে.. বাইরে থেকে এসে জামা বদল ও হাত পা সাবান দিয়ে ধুয়ে নেয় সে,রাতে শোবার আগে জামাবদল কিম্বা সকালে মুখ ধুয়ে নিয়েই একগ্লাস জল খাওয়ারাতে ব্রাশ করা এসব ই সে নিজেই করে..  স্কুলের টিফিন স্টিল বাইরের খাবার নয়..  দিদি বানিয়ে দেয় সে হতে পারে এগরোল কিম্বা রুটি আলুভাজা কিম্বা চাউমিন..  মজার ব্যাপার ওর বন্ধুরা স্যান্ডুইচ বার্গার বাওলি কেক বিস্কিট ছেড়ে ওর রুটি খেতে পছন্দ করে..ছোট ছোট টুকরো করা রুটি কোনোদিন ওর দু চারপিস জোটে.. দিদি কে তাই বলেছি রুটি বেশী দিতে ?

 আমি বাইরে নিয়ে গেলে ওর বায়না কে ললবেশী পাত্তা দিইনি কখনো…  বাড়ি এসে বুঝিয়েছি -তুমি যা চাইবে তা কিনতে গেলে আমায় পয়সা দিতে হবে পর্যাপ্ত পয়সা যার সাথে গেছ তার কাছে নাও থাকতে পারে,এখন না থাকলে তাঁর মন খারাপ হবে ছোট্ট বাচ্চা টা চাইল দিতে পারলাম না!  বরং তুমি দেখে এস আর আমায় বলো..  আমি বাইরে গেলে তোমার সাথে কিনে দেব তখন.. !  যবে বেড়োবো ততদিনে ও ভুলেই গেছে বোধহয়…  নতুন জিনিস পছন্দ হলে দাম জিজ্ঞেস করে নিজেই আস্তে করে জিজ্ঞেস করে -টাকা আছে তোমার কাছে?..  যদি বুঝি এটা নেওয়া যাবে কিনে দিই..  ৫ বার না বলার পর একবার কিনে দিলে গত ৫ টা না ও মুহুর্তে ভুলে যায়…  বাবা মার অসুবিধে বোঝাতে হবে..  তুমি যা চাইছ তা আমার সাধ্যের মধ্যে নাও হতে পারে..  ছোট থেকে বোঝালেই বুঝি ভাল.. 

 বাবা মার পরস্পরের প্রতি ব্যবহার সন্তান কে খুব এফেক্ট করে..  তাই খুব চেষ্টা করি মতান্তরে শব্দদূষন না ঘটুক.. নতুন করে বদলের তো কিছু নেই..শান্ত হয়ে আর চুপ থেকেও অনেক কিছু ইগ্নোর করা যায় সমাধান না বেরোক ..  কারন সংসারে সবকিছু মনের মত হয় না!  মনের মত করার চেষ্টায় যখন ব্যর্থ তখন মৌনতা দিয়ে ইগ্নোর ই বেস্ট পলিসি আমার কাছে..তবে আমার মত টা গুরুত্ব দিতে হবে সেটা শক্ত গলায় একবার জানিয়ে দেওয়া জরুরী শুধু.. 

শুয়ে পড়তে নেইশুয়ে খেতে নেই..  এতে পড়া আর খাওয়া পথ বদল করে খাওয়া মাথায় যায় আর খাওয়া মাথায়! 

কাউকে কষ্ট দিতে নেই হোক সে গাছের পাতা কিম্বা একটা ব্যাঙ.অথবা বন্ধু.

এসব ই বুঝি বড় করে তোলার পার্ট…  

কার্টুনের বদলে গ্লোবে দেশ খোঁজ আর অ্যাটলাস খুঁজে দেখ দেশটা কেমন?  আমি থাকিনা তাই কিছু কেনর উত্তর পেতে হলে বই আছে #হাজার_কেন?  পড়ার বই দূরে থাকে বরং এসব বই কাছে থাকে জানি পড়ার বই কাছে থাকলেও খুলে দেখবে না বরং অন্যবই গুলো ইচ্ছে হলে দেখতে পারে.. তাতে লাভ বই ক্ষতি তো নেই অনেক ব্ল্যাঙ্ক পেপার যা খুশী আঁকো..  ব্লক দিয়ে বাড়ি বানাও গাড়ি বানাও..  ইচ্ছে হলে ছোট গল্প পড়..  টিভির কার্টুন তোমার টাইম পাশ করে এন্টারটেন করেনা বুঝি.. ভাল গান শোন..  গান মানসিক বিকাশে সাহায্য করে.. 

অযথা কারুর সাথে খারাপ ব্যবহার নয়..  তবে হ্যাঁ কেউ অযথা বিরক্ত করলে ফোঁস করতে ভুল না!! 

সময় এগোচ্ছে..  মার হাত ছেড়ে কদিন পর বাস্তবের হাত ধরবে..  তাই যত টা সময় আছে আমার সব ভাল টুকু ওকে ঠেসে ঠেসে দিয়ে যেতে চাই.. বাকি সময় বলুক হল কি না আমার মাতৃত্ব সার্থক… 

Disclaimer: The views, opinions and positions (including content in any form) expressed within this post are those of the author alone. The accuracy, completeness and validity of any statements made within this article are not guaranteed. We accept no liability for any errors, omissions or representations. The responsibility for intellectual property rights of this content rests with the author and any liability with regards to infringement of intellectual property rights remains with him/her.