প্রোটিনে ভরপুর নিরামিষ খাবার

মাছ-মাংস-ডিম ছাড়াও প্রোটিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব

Last Updated on

শিশুর স্বাস্থ্য-সচেতনতার দিকে নজর রাখা প্রত্যেক মায়ের কর্তব্য। প্রত্যেক মা-ই চান তাদের সন্তানকে যথোপযুক্তভাবে আগলে রাখতে।প্রতিটি শিশুর বাবা-মা চান তাদের শিশুটি যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। আর এক্ষেত্রে যথোপযুক্ত খাদ্য নির্বাচন এবং সঠিক পুষ্টিই পারে একটি শিশুর জীবনকে সুন্দরময় করে তুলতে।

আমাদের সমাজে একটা প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, উপযুক্ত পরিমাণে মাছ, মাংস, ডিম না খেলে নাকি প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু একথা একদম-ই যথার্থ নয়। নিরামিষভোজী মায়েদের উদ্দেশ্যে জানাচ্ছি, মাছ-মাংস-ডিম না খেয়েও প্রোটিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এজন্য বেছে নিতে হবে উপযুক্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার,যেমনঃ পনির, টোফু, সোয়াবিন, বিভিন্ন ধরণের ডাল, বাদাম, মটরশুঁটি, ব্রকোলি, সবুজ শাক-সব্জী ইত্যাদি। আর সেই সঙ্গে মেনে চলতে হবে পুষ্টিকর এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস।
প্রোটিন হল পুষ্টির একটি উৎস। এই উপাদানটি বাচ্চার পেশি তৈরীতে, এবং বাচ্চার রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতাকে বাড়াতে সাহায্য করে। তাই শিশুর বিকাশে প্রোটিন হল একটি অপরিহার্য উপাদান। আবার সব শিশুর পুষ্টির চাহিদাও একরকম হয় না। ছেলে-মেয়ে, শারীরিক গঠন, বয়সভেদে এক-ই বয়সী শিশুদের মধ্যে পুষ্টির চাহিদা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, বাচ্চার খাবারে যেন কোনো মতেই জাঙ্ক জাতীয় খাবার না থাকে। জাঙ্ক জাতীয় খাবার আপনার শিশুর শরীরকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে।
তাই আজ নিচে আপনাদের বাচ্চার স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই বেশ কিছু প্রোটিন সমৃদ্ধ নিরামিষ আহার ও মুখরোচক খাবারের সন্ধান দেওয়া হল, যা নিশ্চিতভাবেই আপনার বাচ্চার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হিসাবে বিবেচিত হবে-

(১) সোয়া গ্রানিউলস কাবাবঃ

সোয়াবিন হল এমন একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যা বাচ্চার উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে-সঙ্গে ওজনের বৃদ্ধিও ঘটায়। শিশুদের শরীরে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সোয়াবিন হল অত্যন্ত জরুরী। আসুন শিখে নেওয়া যাক সোয়াবিনের এই রেসিপিটি।

সোয়া গ্রানিউলস
উপকরণঃ
১) সোয়াবিন গ্রানিউলস (মাঝারি মাপের ২ বাটি)
২) আলু (২টো)
৩) পেঁয়াজবাটা (১টা বড় পেঁয়াজ)
৪) আদাবাটা (পরিমাণ মত)
৫) রসুন কুচি (৪-৫টা)
৬) কাঁচালঙ্কা (১টা, স্বাদ অনুযায়ী)
৭) ধনে পাতা (কুচি করা)
৮) নুন, চিনি (স্বাদ অনুযায়ী)
৯) লেবুর রস (স্বাদ অনুযায়ী)
১০) গরম মশলা (১ চামচ)
১১) ভাজার জন্য সাদা তেল বা বাটার
১২) ছাতু (বাইন্ডিয়ের জন্য)
প্রণালীঃ
১) প্রথমে সোয়া গ্রানিউলসগুলোকে জলে ২ ঘন্টা মত ভিজিয়ে রেখে দিন, তারপর সেই জলটা ফেলে দিয়ে সোয়াবিনগুলোকে আবার জল দিয়ে ফুটিয়ে নিন। ফোটানোর সময় জলে অল্প নুন দিতে পারেন। ঠান্ডা হয়ে গেলে জল থেকে সোয়াবিনের বড়িগুলোকে তুলে নিয়ে চেপে চেপে জল ঝরিয়ে নিতে হবে।
২) আলুগুলোকে প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর সেদ্ধ করা সোয়াবিনগুলোকে মিক্সিতে নিয়ে একটা মিহি পেস্ট করে নিতে হবে।
৩) এরপর একটি বড় পাত্রে এক টেবিল চামচ সাদা তেল, অল্প ছাতু, আলু সেদ্ধ এবং বাকি সমস্ত মশলা সহযোগে সোয়াবিনের মিশ্রণটাকে ভালো করে মেখে নিতে হবে।
৪) প্যানে তেল গরম করে, সোয়াবিনের মিশ্রণটাকে কাবাবের আকারে গড়ে ভালো করে স্যালো ফ্রাই করে নিতে হবে। ভালো করে এপিঠ-ওপিঠ ভাজা হয়ে গেলে গরম-গরম পরিবেশন করুন টমেটো কেচাপ এবং মেয়োনিজ সহযোগে। বাচ্চারা যে কি সুন্দরভাবে চেটে-পু্টে খাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখবে না!
তেমনি আরো একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হল পনির। পনিরে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, যা আপনার বাচ্চার শরীরের হাড় ও দাঁতকে মজবুত করতে সাহায্য করে।
চলুন এবার শিখে নেওয়া যাক পনিরের একটা রেসিপি, যা অত্যন্ত কম সময়ে বানানো যায়-

(২) দই পনিরঃ

পনির প্রোটিনে ভরপুর

উপকরণঃ
১) পনির (৫০০ গ্রাম)
২) টক দই (১০০গ্রাম)
৩) সাদা দই (১০০গ্রাম)
৪) আদা বাটা (১চা-চামচ)
৫) রসুন বাটা (১চা-চামচ)
৬) পেঁয়াজ বাটা (১চা-চামচ)
৭) ক্যাপ্সিকাম কুচি
৮) কাজু-পোস্ত বাটা
৯) দারুচিনি
১০) জাফরান (১ চিমটি)
১১) নুন আন্দাজমত
১২) চিনি স্বাদ অনুযায়ী
১৩) সাদা তেল
প্রণালীঃ
১) প্রথমে পনিরগুলোকে টুকরো করে কেটে নিন। এরপর দুই ধরণের দই একসঙ্গে করে নুন এবং চিনি দিয়ে মিশিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। এতে বাকি উপকরণগুলো অর্থাৎ আদাবাটা, রসুনবাটা, পেঁয়াজ বাটা, স্বাদ অনুযায়ী নুন একে একে দিয়ে দিন।
২) এরপর ফ্রাইং প্যানে তেল দিয়ে হালকা করে পনিরের টুকরোগুলোকে ভেজে তুলে নিন। এবার ঐ তেলে দইয়ের মিশ্রণটি ঢেলে দিন। অল্প ফুটে উঠলে ওর মধ্যে কাজু-পোস্তর মিশ্রণটি দিয়ে দিন। এরপর আরো কিছুক্ষণ ধরে কষান।
৩) ভালো করে ফুটে উঠলে পনিরের টুকরো আর জাফরান দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করতে হবে। পুরোটা মাখা-মাখা হয়ে এলে ক্যাপ্সিকামের টুকরোগুলো দিয়ে নামিয়ে নিন।
বাচ্চারা এই ধরণের চটপটা রেসিপি খেতে খুব-ই পছন্দ করে থাকে। পরোটা কিংবা রুটির সাথে গরম-গরম পরিবেশন করুন।
কড়াইশুঁটি-ও হল এমন একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ সব্জী যা বাচ্চাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, লিভারকে সুস্থ রাখে,এবং ওজনকে ঠিক রাখে। এক কথায় বলতে গেলে একের মধ্যে অনেক গুণসম্পন্ন সব্জী হচ্ছে কড়াইশুঁটি। দই পনিরের সাথে কড়াইশুঁটির এই রেসিপিটি যদি আপনারা আপনাদের বাচ্চাদের খাওয়ান, ওরা অত্যন্ত খুশী হবে বলেই আমি আশা রাখি। কিভাবে অতি সহজে কড়াইশুঁটির কচুরি বানাবেন, তা আমি আপনাদের এই রেসিপির মাধ্যমে বলতে চলেছি।

(৩) কড়াইশুঁটির কচুরিঃ

কড়াইশুঁটির কচুরি

উপকরণঃ
১) কড়াইশুঁটির দানা (২৫০ গ্রাম)
২) গোটা জিড়ে (১ টেবিল চামচ)
৩) হিং (১ চিমটে)
৪) কাশ্মিরী লাল-লঙ্কার গুড়ো (আন্দাজমত)
৫) লবঙ্গ (৩-৪টে)
৬) দারুচিনি (১টা)
৭) নুন (স্বাদ-অনুযায়ী)
৮) কাঁচালঙ্কা (পরিমাণ মত)
৯) শুকনো-লঙ্কা (১টা)
১০) আদা বাটা (১ টেবিল চামচ)
১১) ময়দা
১২) চিনি (স্বাদ অনুযায়ী)
১৩) ভাজার জন্য সাদা তেল
প্রণালীঃ
১) প্রথমে ময়দাকে ময়ান দেওয়ার জন্য অল্প নুন-চিনি দিয়ে ভালো করে একটু মেখে নিন, তারপর হালকা গরম জল একটু একটু করে দিয়ে ভালো করে মেখে নিয়ে একটি ডো বানিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন ডো-টি যেন বেশী শক্ত বা নরম না হয়।
২) এরপর কড়াইশুঁটিগুলোকে সেদ্ধ করে নিয়ে সেই সেদ্ধ কড়াইশুঁটি এবং কাঁচালঙ্কাগুলোকে ভালো করে ধুয়ে মিক্সিতে ফাইন পেস্ট বানিয়ে রেখে দিন।
৩) এরপর তৈরী হবে ভাজা মশলা। তার জন্য তাওয়া গরম করে তাতে গোটা জিড়ে, শুকনো-লঙ্কা, লবঙ্গ আর দারুচিনি ভালো করে শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়ো করে নিন।
৪) এইবার পুর বানানোর জন্য কড়াইয়ে তেল দিয়ে গরম হলে তাতে একে-একে দিন হিং এবং আদাবাটা। ভালো করে ভাজা হলে কড়াইশুঁটির পেস্টটি ঢেলে নুন দিয়ে ভালো করে মেশান। এরপর ভাজা মশলা দিয়ে নাড়তে থাকুন। গ্যাস মাঝারি আঁচে রেখে মিশ্রণটি নাড়তে হবে। এরপর মিশ্রণটি ঠান্ডা হওয়ার জন্য রেখে দিতে হবে।
৫) ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর মেখে রাখা ময়দা থেকে লেচি কেটে পরিমাণমত পুর ভরে তাকে হাতের চাপে গোল করে বেলতে হবে। বেলনা চাকিতে বেলে লুচির মত আকার দিন।

৬) তেল ভালো করে গরম হয়ে এলে তাতে একটা একটা করে কচুরি ছেড়ে দু-পিঠ ভালো করে ভেজে নিয়ে দই- পনিরের সাথে পরিবেশন করুন।

আপনার বাচ্চার ডায়েটে এই সমস্ত নানান-ধরণের হাই-প্রোটিনযুক্ত মিলের আবশ্যকতা অত্যন্ত জরুরী। যা বাচ্চার বৃদ্ধি ও বিকাশে অত্যন্ত জরুরী।

(৪) v-Nourish:
৪০ ধরণের পুষ্টিগুণ সম্পন্ন V-Nourish

এছাড়া আজকাল অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, সারাদিন কর্মব্যস্ত জীবনে থাকার পর অনেক মা-ই বাচ্চার জন্য আলাদা করে স্বাস্থ্যকর কিছু তৈরী করবার এনার্জি এবং সময় দুটোই পান না। যথোপযুক্ত খাদ্য গ্রহণের পর-ও বাচ্চা আদৌ সঠিক পরিমাণে পুষ্টি পাচ্ছে কিনা, তা বোঝাও অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু তা বলে বাচ্চার পুষ্টি বা স্বাস্থ্যের ব্যাপারে তো কোনো আপোস করা যায় না। আর এজন্যেই সবকিছুকে মাথায় রেখে আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি V-Nourish, যা শুধুমাত্র ঠান্ডা দুধের মধ্যে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে।
এছাড়া এটি ৪০ ধরণের পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হাই-প্রোটিনযুক্ত এক ধরণের ব্যালেন্স-ডায়েট মিশ্রিত সাপ্লিমেন্ট যা বাচ্চার বৃদ্ধি এবং বিকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত আবশ্যক, যা বাচ্চার ইমিউনিটি বাড়াতে, মস্তিষ্কের গঠনে, উপযুক্ত হজমে এবং স্ট্যামিনা বাড়াতে সাহায্য করে। যেসব মায়েরা বাচ্চাদের সব-সময় নানান-ধরণের পুষ্টিকর খাবার বানিয়ে দিতে সময় পান না, তারা অতি সহজেই V-Nourish এর মাধ্যমে বাচ্চার ঘাটতিকে দূর করতে পারবেন। আর তাছাড়া প্রত্যেক মা-ই চান তাদের বাচ্চা যেন উপযুক্ত পুষ্টি পায়, আর তা অতি সহজেই এই ৪০টি গুণ সম্পন্ন সা্প্লিমেন্ট-টা থেকে পেয়ে যাবেন।
এই প্রোটিন সাপ্লিমেন্টটিতে চার ধরণের ফ্লেভার রয়েছে-
১) স্ট্রবেরি
২) চকো কুকি
৩) কেশর-পিস্তা
৪) বাদাম
আপনার বাচ্চার পছন্দমত ফ্লেভারটি আপনি অতি সহজেই বাচ্চাকে দিতে পারবেন, এর দাম-ও কিন্তু খুব একটা বেশী নয়, ২০০ গ্রামের প্যাকেট আপনি মাত্র ৩১৫ টাকায় পেয়ে যাচ্ছেন, যার মাধ্যমে আপনি আপনার বাচ্চার ডায়েটে হাই-প্রোটিনের মাত্রা অতি সহজেই বাড়াতে পারবেন।
V-Nourish এর বিশেষত্বঃ
প্রত্যেকটি V-Nourish-এর প্রোডাক্টে উপাদানগুলি একদম আসল, যা পুরোপুরি বানানো হয়েছে বাচ্চাদের স্বাদ এবং চাহিদা অনুযায়ী। এখানে কোনো রকম কোনো কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়নি, বা কোনো রকম সিন্থেটিক রং মেশানো হয়নি; অথবা কোনো-রকম বাড়তি চিনির ব্যবহার করা হয়নি; যা কিছু ব্যবহৃত হয়েছে তা সম্পূর্ণ-ই প্রকৃত উপাদান দিয়ে তৈরী। যেমন ধরুনঃ স্ট্রবেরি ফ্লেভারে আসল স্ট্রবেরির টুকরোই ব্যবহার করা হয়েছে। আবার কেশর-পেস্তায় বাস্তবিক-ই আসল কেশর এবং পেস্তা বাদাম-ই ব্যবহৃত হয়েছে। এই প্রোডাক্ট-টি ২ থেকে ৫ এবং ৫ বছরের অধিক বাচ্চারাও নিঃসন্দেহে খেতে পারবে।
কোথা থেকে কিনবেনঃ
যেকোনো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে অনায়াসেই এটি আপনি কিনতে পারবেন, এছাড়া amazon, বিগ বাস্কেট, মেড লাইফ, হেলথ-কার্ট এইসব জায়গা থেকেও অতি সহজেই কিনতে পারবেন।
অতএব সর্বশেষে বলা যায়, আমরা মায়েরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বুঝে উঠতে পারি না, শিশুদের জন্য তৈরী আদর্শ ডায়েটে ঠিক কি কি খাবার রাখা উচিৎ আর কি কি খাবার রাখা উচিৎ না। তাই উপযুক্তভাবে বাচ্চার সঠিক খাদ্য নির্বাচনের সময় অন্যান্য খাদ্যের পাশাপাশি “V-Nourish”-কেও অবশ্য-ই মাথায় রাখতে হবে; যা বাচ্চার সর্বাঙ্গীন বিকাশে অত্যন্ত জরুরি। একজন বাচ্চা তখন-ই সবথেকে বেশী হাসি-খুশী এবং এনার্জিটিক থাকবে, যখন তার সমস্ত প্রয়োজনীয়তা এবং ঘাটতিগুলোকে এক উপযুক্ত আদর্শ ডায়েটের দ্বারা পূর্ণ করা যাবে। আর বাচ্চার মা হিসেবে আমাদের-ই সেইদিকে নজর রাখা একান্ত জরুরি।
~~লেখনীতে–এলিজা দত্ত~~
Previous article10 Uncommon Signs & Symptoms of Pregnancy
Next articleBlooming a Premature Bud in This Fast-paced World