মাতৃত্বের সর্বশক্তি দিয়ে সন্তানকে বড় করবো

মাতৃত্বের সর্বশক্তি দিয়ে সন্তানকে বড় করবো

ডাক্তারবাবুর মতামত অনুযায়ী আমার সন্তানের পৃথিবীর আলো দেখার সময় নির্ধারিত হয়েছিল ইংরেজি ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি | সেইমতো অক্টোবর মাস পর্যন্ত অফিস করে নভেম্বর মাস থেকে ছুটি নিয়েছিলাম | যদিও শেষের দিকে অফিস করতে কষ্ট হতো খুবই | তবুও সন্তান জন্মের পরমুহূর্তটা ওর সাথে যতটা সম্ভব বেশি সময় কাটিয়ে তারপরে আবার আমার কর্মজীবনে প্রবেশ করবো বলেই মনস্থির করেছিলাম | সেইমতো সকল কষ্ট তুচ্ছ করে অফিস করে যাচ্ছিলাম |

যে মাস থেকে আমার ছুটি শুরু হলো সেইমাসেই আমাদের বাধ্য হয়েই বাড়ি পরিবর্তন করতে হয়েছিল | সেই সব ঝক্কি সামলে ওঠার পর থেকেই আমার শরীরের কষ্ট ক্রমাগত বাড়তে লাগলো | আমার স্বামী চেষ্টা করেও সময় মতো আসতে না পারায় ডাক্তার দেখাবার নির্ধারিত একটি দিন পেরিয়ে গেলো | ক্রমশ খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধ এমনকি কথা বলার শক্তিও যেন হারাচ্ছি | একরাত থেকে শরীরের অবস্থা বেসামাল হয়ে পড়লো | ফোনে আমার স্বামীর সাথে কথা হলো ডাক্তারবাবুর | উঁনি কিছু ওষুধ এবং টেস্টের কথা বললেন | ওষুধ খাওয়া এবং টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে প্রথমবার ঘটনাচক্রে ওনার সাথে দেখা হলো না | দ্বিতীয়বারে আমাকে দেখেই উঁনি সেইদিন বেশি রাত হয়ে যাওয়ার কারণে পরের দিনই নার্সিংহোমে ভর্তি হতে বললেন, এমনকি সিদ্ধান্ত হলো ওইদিনই সিজারের মাধ্যমেই আমার সন্তানের জন্ম হবে | সব শুনে আমার স্বামী খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লেন| বাড়ি ফিরে আমার মাকে এবং ফোনে আমার স্বশুরমশাইকে সেকথা জানানো হলো | পরদিন দুপুরে জন্ম হলো আমার ছেলের |

অনেক কষ্ট ও চিন্তার অবসানে জন্ম হলো আমার ছেলের

চারমাসের ছুটি শেষে যেদিন আবার আমার কর্মক্ষেত্রে পা রাখলাম সেদিন ভাবতেও পারিনি এরপর আমার জন্য কি কি অপেক্ষা করে আছে | সে এক অসহায় মায়ের নির্মম অভিজ্ঞতার কাহিনী | আমার ছেলের জন্মের আগে ভাবতেও পারিনি ছেলে-সংসার -কর্মজীবন সামলাতে গিয়ে আমাকে ওইভাবে এক চরম অমানবিক সময়ের সাক্ষী হতে হবে | আটমাসের কঠিন পরীক্ষার পর আমার মাতৃসত্ত্বার কাছে হার মানতে বাধ্য হলো আমার পুরোনো আমিস্বত্বা | বেরিয়ে এলাম আমার দীর্ঘ দশ বছরের কর্মজীবন থেকে | আমার মাও তখন ফিরে গেছেন তাঁর নিজের বাড়িতে | আমার ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে আমি হলাম চারদেয়ালে বন্দি |

কর্মসংস্থান ছেড়ে বেরিয়ে আশার পরে মনে হয়েছিল আমার নিজের উপার্জনের ভিত্তিতেই আমি আমার ছেলেকে একটা ভালো জীবন দিতে পারবো বলেই বিশ্বাস করতাম | সেই বিশ্বাসের ভিত যখন নড়ে গেলো সারাক্ষণ এই ভাবনাতেই আহত হতাম যে আমি ওকে কিরকম জীবন দিতে চেয়েছিলাম আর কিরকম জীবন দিলাম | কিন্তু ওই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে ওর ভালো থাকার জন্য আমার কাছে ওর চাহিদা হলো শুধুমাত্র বুকভরা ভালোবাসা নিয়ে ওকে জড়িয়ে থাকা ওর মাকে | আর তার জন্য দরকার নেই টাকাপয়সার | সন্তান রূপে, ভগিনী রূপে, স্ত্রী রূপে কোনো যুদ্ধে পিছপা হইনি কখনো তবে কেন আমার শ্রেষ্ঠতম রূপে প্রথম থেকেই হার মেনে বসে যাবো ? অর্থের দ্বারা যে সুখ দিতে চেয়েছিলাম নিজের সন্তানকে কেন শুধুমাত্র সেকথা ভেবেই হাহুতাশ করে যাবো ? নিজের মাতৃত্বের সর্বশক্তি দিয়ে সন্তানকে বড় করবো আমি | ওকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলা, একটা সুন্দর জীবন যা ও নিজেই গড়ে নিতে পারবে নিজের জন্য ওকে প্রস্তুত করাই হলো আমার জীবনের লক্ষ্য | ওই আমার শক্তি, আমার সুখ, আমার জীবন | আমার একান্ত আপন | আমরা ভালো আছি, ভালো থাকবো |

Disclaimer: The views, opinions and positions (including content in any form) expressed within this post are those of the author alone. The accuracy, completeness and validity of any statements made within this article are not guaranteed. We accept no liability for any errors, omissions or representations. The responsibility for intellectual property rights of this content rests with the author and any liability with regards to infringement of intellectual property rights remains with him/her.